Wednesday, July 15, 2020

চায়না ও ইরান চুক্তি বদলে দিতে পারে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রকে তোয়াক্কা না করে চায়না ও ইরান তাদের মধ্যে ২৫ বছরের একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতা’ চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনার কাজ সেরে ফেলেছে বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরানের মন্ত্রিসভা চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে। বাকি রয়েছে দুই দেশের পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং দুই প্রেসিডেন্টের সই। খবর বিবিসির।

পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য ডজন-খানেক মিডিয়ায় বিভিন্ন নিবন্ধে বিশ্লেষকরা বলেন, চায়না ও ইরানের এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়ার বিরাট একটি অংশের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে দেবে।

চায়না ও ইরানের সরকার এখনও এ চুক্তির বিস্তারিত কিছু ভেঙ্গে না বললেও, নিউইয়র্ক টাইমস এবং হংকং-ভিত্তিক এশিয়া টাইমসসহ বেশ কিছু শীর্ষ সারির মিডিয়া বলছে তারা ১৮-পাতার খসড়া চুক্তিটি দেখেছে।

সে সূত্রে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত নানা তথ্যের ভিত্তিতে যা জানা গেছে তাতে ইরানের তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং, টেলিকম, বন্দর উন্নয়ন, রেলওয়ে উন্নয়ন এবং আরো কয়েক ডজনখানেক গুরুত্বপূর্ণ খাতে চায়না ব্যাপক বিনিয়োগ করবে।

এ বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ২৫ বছরে কমপক্ষে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে।

সে সাথে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কথা রয়েছে।

মিডল-ইস্ট আই নিউজ ওয়েবসাইটে একটি রিপোর্টে লেখা হয়েছে, চুক্তির আওতায় চায়না তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় ইরানে পাঁচ হাজার পর্যন্ত সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে।

সুতরাং এ চুক্তি সই হলে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি চাইনিজ সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিনিয়োগের বদলে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে চায়নাকে অনেক ছাড় দেবে ইরান। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে তেল-গ্যাস পাবে চায়না এবং চাইনিজ মুদ্রায় সে দাম পরিশোধ করতে পারবে।

মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া চুক্তির এসব শর্ত নিয়ে ইরান বা চায়নার সরকারের পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘(চায়নার সাথে প্রস্তাবিত এ চুক্তি) ইরানের কূটনীতির জন্য গর্ব করার মত একটি অধ্যায়।’

ইরান কেন এই পথে?

ওয়াশিংটনে আরব গালফ স্টেটস ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইরান এখন অস্তিত্বের স্বার্থে চায়নার দ্বারস্থ হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুদের হিসাবে ইরান দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ দেশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানি বিক্রি করা তাদের জন্য দুরূহ কাজ হয়ে পড়েছে। সে সাথে বিনিয়োগের অভাবে তেল ক্ষেত্র উন্নয়নের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

চাইনিজ বিনিয়োগ তাদেরকে সে ‘মহাসঙ্কট’ থেকে বের করে আনতে পারবে। জ্বালানি খাতের জন্য বিশেষ সাময়িকী পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্ট গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম প্রকাশ করে যে ইরানের তেল, গ্যাস এবং পেট্রো-কেমিক্যাল খাতে ২৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চায়না।

ওই সাময়িকী সে সময় বলে, ‘চায়না ও ইরানের এ চুক্তি দুনিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনবে যেখানে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

তবে অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, চায়না ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি। নব্বইয়ের দশকে থেকেই এ দুই দেশ সহযোগিতা নিয়ে কথা বলছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে এক তরফা ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া এবং ইরানের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।

চায়নার স্বার্থ কি?

২০১৬ সালে চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ইরান সফরের সময় ২৫ বছরের একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি’ নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে প্রথম প্রাথমিক একটি বোঝাপড়া হয়। গত চার বছর ধরে তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

কুয়ালালামপুরে মালয় ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউ অব চায়নার প্রফেসর ড. মাহমুদ আলী বলেন, ইরানকে তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের মধ্যে শক্ত ভাবে আনার জন্য চায়না অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘মলাক্কা প্রণালী দিয়ে তাদের বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরতা কমানোর জন্য চায়না বহুদিন ধরে উদগ্রীব, কারণ ওই সমুদ্র রুটটির নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের হাতে, সুতরাং ইরানকে পাশে পেলে সমুদ্র রুটকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা চায়নার জন্য অনেক সহজ হবে।’

অবশ্য চায়না ও ইরানের মধ্যে সরাসরি রেল লিংক রয়েছে। এ রেল রুট ‘নতুন সিল্ক রোড নামে’ পরিচিত, যা শিনজিয়াং থেকে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিস্তানকে যুক্ত করে তেহরান পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে এ রুটকে আরো সংহত, আধুনিক ও কার্যকরী করতে উদগ্রীব চায়না।

সহযোগিতা চুক্তি হবার আগেই চায়না ইরানের রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের কাজে জড়িয়ে পড়েছে। চাইনিজ কোম্পানি সিনোম্যাক পশ্চিম ইরানে নতুন একটি রেল লাইন তৈরির চুক্তি সই করেছে।

তবে বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্প তেহরান এবং মাশাদের মধ্যে ৯২৬ কিলোমিটার রেল লাইনের বিদ্যুতায়ন। তেহরান-কোম-ইস্পাহানের মধ্যে একটি দ্রুতগতির রেল লাইন নির্মাণ নিয়েও কথা হচ্ছে চায়নার সাথে। এসব রেল প্রকল্প ‘নতুন সিল্ক রোডে‘র অংশ হবে।

চায়না-ইরান এ সম্পর্কের প্রভাব কি হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিরিন হান্টার মিডল-ইস্ট আইতে এক নিবন্ধে বলছেন, ইরানের সাথে চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে চায়নার অবস্থান সংহত করবে। ‘সে সাথে ইরানের অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি হবে। ফলে তাদের রাজনীতিও স্থিতিশীল হবে।’

হান্টার মনে করেন, ইরানের সাথে সংঘাতের ব্যাপারে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মধ্যে আগ্রহ কমবে। ‘এমনকি উপসাগরের অনেক দেশ চায়নার সাথে এ ধরণের বিশেষ চুক্তিতে আগ্রহী হয়ে ওঠতে পারে।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন কাবেহ আফছার সারসাইয়াবি। হংকংয়ের দৈনিক এশিয়া টাইমসে এক নিবন্ধে তিনি বলছেন, ইরান যদি চায়নার বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয় তাহলে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির কৌশলগত সমীকরণ বদলে যাবে।

তিনি বলেন, ‘খুব ধীরে হলেও নিশ্চিত ভাবে চায়না-ইরান এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত জোট দানা বাঁধছে, যার সাথে অদূর ভবিষ্যতে যুক্ত হবে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া।’

তার মতে, নতুন এ ভূ-রাজনৈতিক সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, তার মিত্র ইন্ডিয়ার জন্যও নিঃসন্দেহে মাথাব্যথার কারণ হবে!

Monday, July 13, 2020

খ্রিস্টান পাদ্রিদের কাছ থেকে আয়া সোফিয়াকে নিজ অর্থে ক্রয় করে মসজিদ বানিয়েছিলেন সুলতান ফাতিহ

১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর খ্রিস্টান পাদ্রিদের কাছ থেকে নিজ অর্থায়নে আয়া সোফিয়াকে কিনেছিলেন সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ। এরপর তিনি মসজিদ হিসেবে আয়া সোফিয়ার সম্পদকে ওয়াকফ করেন।
সম্প্রতি দুনিয়াখ্যাত নিউজ মিডিয়া আল-জাজিরার এক অনুসন্ধান মূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ১৯৩৪ সালে মসজিদ থেকে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্তকে বাতিল ঘোষণা করে তুরস্কের প্রশাসনিক আদালত। এরপরই এক রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করে আয়া সোফিয়াকে পূনরায় মসজিদে রূপান্তরের যুগান্তকারী নির্দেশনা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।
আয়া সোফিয়াকে পূনরায় মসজিদে রূপান্তরের বিরোধিতা করে আসছে আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও গ্রিসসহ দুনিয়ার খৃষ্টান প্রধান দেশ ও নেতৃবৃন্দ।
তাদের এ বিরোধিতাকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন উসমানী সাম্রাজ্যের ইতিহাস বিষয়ক গবেষকগণ। তারা জানান, ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর আয়া সোফিয়াকে খ্রিস্টান পাদ্রিদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ। তিনি তা মসজিদের জন্যই ওয়াকফ করেন। সুতরাং আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারে নীতিগত কোনো বিরোধ থাকলো না।
১০ জুলাই আয়া সোফিয়াকে পূনরায় মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর ২৬ বছর আগে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের দেয়া এক সাক্ষাৎকার টাইমলাইনে আসে।
কুয়েতের ‘মুজতামা’ পত্রিকায় ১৯৯৪ সনে এপ্রিল (১০৯৭তম) সংখ্যায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারটিতে এরদোগান বলেছিলেন, “যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আয়া সোফিয়া-কে গীর্জায় রূপান্তরিত করতে দেয়া হবে না। আয়া সোফিয়া-কে পুনরায় গীর্জায় রূপান্তরিত করা নিছক কল্পনা মাত্র।”
ওই সাক্ষাতকারে এ কথার ব্যাখ্যায় এরদোগান বলেছিলেন, “আয়া সোফিয়াকে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে এবং এটি এমনই (মুসলমানদের জন্য ওয়াকফকৃত) থাকবে।”
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে সকলেই অবগত যে, সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ ইস্তাম্বুল বিজয়ের সময় কোনো গীর্জা দখল করেননি, এমনকি আয়া সোফিয়াকে তিনি নিতান্তই নিজের অর্থ সম্পদের বিনিময়ে ক্রয় করে মসজিদে রূপান্তর করে মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। তিনি (সুলতান ফাতিহ) বলেছিলেন, “এটিকে অন্য উদ্দেশ্য যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, তবে তার উপর আল্লাহর এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লা’নত”
আয়া সোফিয়ার ইতিহাস:
❤ আয়া সোফিয়ার ইতিহাসের সূচনা ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে।
❤ বাইজান্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন হর্ণ নামের এক জায়গায় একটি বিশাল গির্জা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।
❤ সে সময় বিশাল গম্বুজের এ গির্জাকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গির্জা বা দালান বলে মনে করা হতো।
১২০৪ সালে ক্রসেডারদের হামলার ঘটনা বাদে কয়েক শতাব্দী ধরে আয়া সোফিয়া বাইজান্টাইনদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
অটোমান (ওসমান) বংশীয় সুলতান তৃতীয় মুহাম্মদ ১৪৫৩ সালে বাইজান্টাইন শাসকদের হাত থেকে ইস্তাম্বুল দখল করে নেন।
❤ এর আগে শহরটির নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল। ইস্তাম্বুল দখলের পর বিজয়ী মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো গির্জার ভেতরে সালাত আদায় করেন।
১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর খ্রিস্টান পাদ্রিদের কাছ থেকে নিজ অর্থায়নে আয়া সোফিয়াকে কিনে নিয়েছিলেন সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ।
এটা কিনে নেয়ার পর এর সম্পদকে ওয়াকফ করেন তিনি।
❤ ওসমানিয়া (অটোম্যান) শাসকরা এরপর হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন।
❤ মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার তৈরি করা হয়।
এরপর কয়েকশ বছর ধরে হায়া সোফিয়া ছিল অটোম্যান মুসলিম সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।
১৯৩৪ সালে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করেন মোস্তফা কামাল পাশা। যিনি কামাল আতাতুর্ক নামেই পরিচিত।
❤ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম নির্মূল অভিযান শুরু করা হয়।
❤ ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করার প্রক্রিয়ায় আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়।
আয়া সোফিয়া এখন তুরস্কের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
❤ প্রতিবছর ৩৭ লক্ষ পর্যটক এটি দেখতে আসেন।
গীর্জা বিক্রি এবং তা কিনে নিয়ে মসজিদে রূপান্তরের ইতিহাস:
আধুনিক যুগে গীর্জা কিনে মসজিদে হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা অনেক। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা দিনদিন প্রার্থনায় অলস হয়ে যাবার কারণে খালি হয়ে যায় বিভিন্ন গীর্জা। পরে মুসলিমরা তা কিনে নিয়ে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করেন।
এমনই একটি মসজিদ হলো নিউইয়র্ক ব্রুকলিন মসজিদ। ১৯০৭ সালের আগে এটি গীর্জা হিসেবে ব্যবহার হতো। মুসলিমরা তা ক্রয় করে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
গীর্জাকে ক্রয় করে মসজিদে রূপান্তরের তালিকায় রয়েছে আয়ারল্যান্ড ডাবলিন মসজিদ। এ মসজিদটি আগে একটি গীর্জা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৩শ শতাব্দীর ইংরেজদের গীর্জার শৈলীতে ১৮৬০-এর দশকে ডোনোর প্রেসবিটারীয় গীর্জাটি নির্মিত হয়। ১৯৮৩ সালে এটি আয়ারল্যান্ড ইসলামী ফাউন্ডেশন কিনে নেয় ও মসজিদে রূপান্তরিত করে।
এ তালিকায় আরো রয়েছে জার্মানির ওয়েস্টফালিয়ার ফেইজ ঈমান মসজিদ। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের একদল ব্যবসায়ী জার্মানির ওয়েস্টফালিয়া নর্থ রাইল প্রদেশের হেগেন শহরে একটি প্রাচীন গীর্জা ক্রয় করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন।
পাকিস্তানের মুসলিম ব্যবসায়ী এ গীর্জাটি ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড দিয়ে ক্রয় করেন। জেসুস হিলিগেন নামক প্রাক্তন গীর্জাটির নাম পরিবর্তন করে ‘ফেইজ ঈমান’ নামকরণ করা হয়।
এ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে খৃষ্টানদের কাছ থেকে গীর্জা কিনে মসজিদ বানানোর ঘটনা অনেক। কিন্তু আয়াসোফিয়া দীর্ঘ ৫০০ বছর মসজিদ হিসেবে থাকার পরও অনৈতিক ভাবে এটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। মোস্তফা কামাল পাশা (কামাল আতাতুর্ক) ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম নির্মূল অভিযান শুরু করেন। এর অংশ হিসেবেই আয়া সোফিয়াকে গীর্জায় রূপান্তর করা হয়।
দীর্ঘ ৮৬ বছর পর তুরস্কের শীর্ষ আদালতের রায়ের মাধ্যমে আয়া সোফিয়াকে পূনরায় মসজিদে রূপান্তর করার ঘটনায় পশ্চিমা দুনিয়ার মায়াকান্না মুসলিম দুনিয়ায় অনেক প্রশ্ন সঞ্চার করেছে।
তথ্য সহায়তা: Al Jazeera English.

Saturday, July 11, 2020

মহাকাশ স্টেশন সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য!




আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন একটি বিশাল মহাকাশযান, যা পৃথিবীর কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে। এটি পৃথিবী থেকে ২৪০ মাইল উপরে ভেসে বেড়াচ্ছে। মহাকাশচারীদের জন্য বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার হয় এ মহাকাশযানটি। এ মহাকাশযানে ছয়জন স্পেস-ক্রু ছাড়াও মহাকাশে অতিথি অভ্যর্থনার ব্যবস্থা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া সহ মোট ১৫ টি দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এ ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনকে মানব সভ্যতার একটি অনন্য অর্জন বলে গণ্য করা হয়। এটি ১৯৯৮ সালের ২০ নভেম্বর লঞ্চ করা হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক এ ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন খুব দ্রুত চলছে:

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন প্রতিদিন পৃথিবীকে পাক্কা ১৬ বার প্রদক্ষিণ করছে। গাণিতিকভাবে বলতে গেলে পৃথিবীতে ছোঁড়া একটি বুলেটের ১০ গুণ বেগে- প্রতি ঘন্টায় ২৮,০০০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে মহাকাশযানটি।

খাওয়া-দাওয়া? টয়লেট?

মহাকাশযান এর কথা এলে এ দুইটি প্রশ্ন সবার মাথায় ঘুরপাক খায়। নভোচারীগণ খাওয়া-দাওয়া করেন কীভাবে? আর টয়লেটের ব্যবস্থাই বা কী?

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে দুইটি টয়লেট রয়েছে, যা নভোচারীরা প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। এমনকি নভোচারীদের মূত্র ফিল্টারিং করে পানযোগ্য পানিতে পরিণত করা হয়।

সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থের ছিটেফোঁটাও ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এ বিশাল দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। সেখানে তরল পানীয় ব্যাগ থেকে স্ট্র এর মাধ্যমে পান করা হয়। নভোচারীগণ খাদ্য গ্রহণ করেন ট্রে থেকে, যেগুলো ম্যাগনেট এর মাধ্যমে মহাকাশযানের সাথে আটকানো থাকে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান:

রাতের আকাশে পৃথিবী হতে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন হচ্ছে ৩য় সর্বোচ্চ উজ্জ্বল বস্তু, যা সম্পূর্ণ খালি চোখে দেখা যায়। আকাশে অতি দ্রুততার সাথে ছোটা বিমান সদৃশ আলোই হল ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। সকাল এবং সন্ধ্যায় এটি সবচেয়ে ভাল দৃশ্যমান হয়।

শারীরিক পরিবর্তন বিদ্যমান:

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে মহাকাশচারীগণ বিভিন্ন ছোট থেকে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। পায়ের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার মত কোমল হয়ে যায়। এ ছাড়াও গ্র‍্যাভিটির অভাবে শরীরের হাড়গুলো যাতে ক্ষয়ে না যায়, সে জন্য নভোচারীগণ বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করেন।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এ ইন্টারনেটের সুব্যবস্থা:

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এর সকল বাসিন্দাদের কাছেই রয়েছে ল্যাপটপ। এমনকি তাঁরা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়ে তাদের পরিবার কিংবা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ইন্টারনেট থাকার দরুন আপনার আমার মত লাইভ টিভি কিংবা সিনেমা উপভোগ করার সু্যোগ তো থাকছেই। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে ৬০০ মেগাবিট/সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই আশা করা যায়।

এটি অত্যন্ত বিশাল:

মানুষের তৈরিকৃত সর্ববৃহৎ বস্তু এই ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। এটি ৩৫৭ ফুট লম্বা। এ বৃহৎ মহাকাশযানটি এর ৪৬০ টন ভর নিয়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এটি একটি আদর্শ গবেষণাগার:

নভোচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রবিশেষে পারদর্শী বিজ্ঞানী এবং গবেষক ও রয়েছেন এ মহাকাশযানে। এরই সুবাদে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে সর্বদা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতেই থাকে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে সময়ের পরিবর্তন:

মজার ব্যাপার হল, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে মহাকাশচারীগণ পৃথিবীতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স নিয়ে ফিরে আসেন। মহাকাশযানটির অতি দ্রুত বেগের কারণে সময় পৃথিবীর চেয়ে ধীরে কাটে সেখানে। তবে এ সময় যে বিশাল একটি সংখ্যা, তেমন কিছু না। মহাকাশযানটিতে ৬ মাস কাটানোর পর নভোচারীগণ পৃথিবীতে থাকা সাধারণ মানুষ এর চেয়ে মাত্র ০.০০৫ সেকেন্ড ছোট হন।

সহজ কাজও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে:

পৃথিবীতে যেসব কাজ সহজ, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে সেসব কাজ রীতিমত দুঃসাধ্য বলা চলে। চুল কাটার মত দৈনন্দিন কাজ সাড়তেও সেখানে বিশাল ভোগান্তি পোহাতে হয় নভোচারীদের। ভ্যাকুয়াম এ সংযুক্ত থাকা ক্লিপার এর মাধ্যমে চুল কাটেন নভোচারীগণ। এ প্রক্রিয়ায় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় নভোচারীদের। কেননা সামান্য একটি চুলসদৃশ বস্তুও মহাকাশযানের বিভিন্ন ফিল্টার কিংবা যন্ত্রকে নিমিষেই অচল করে দিতে পারে।

যে কেউ চাইলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ঘুরে দেখতে পারে:

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন মানুষকে এক হয়ে ভাবতে সাহায্য করে আসছে। এমনকি আপনি চাইলেও এর অংশ হতে পারেন। গুগল স্ট্রিট ভিউ ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে পৃথিবী থেকে দেখতে পারেন যে কেউ।

তথ্যসূত্র: নাসা/গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার


স্বৈরাচারের দোসর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন ব্রিটিশ আইন!!


দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের লক্ষ্য করে ব্রিটেন বিভিন্ন ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস স্যাংশন্স রেজিম নামের এক নতুন আইনে গুরুতর লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। গত সোমবার রাশিয়া, সৌদি আরব, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার ৪৭ জন ব্যক্তি এবং দুটি সংস্থার বিরুদ্ধে ব্রিটেনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও দেশটিতে থাকা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণার মাধ্যমে এ নতুন আইন কার্যকর হয়েছে।

এ আইনের কথা ঘোষণার সময়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, ব্রিটিশ জনগণের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে, ‘যাদের হাতে রক্ত আছে, স্বৈরাচারের পান্ডা, স্বৈরশাসকের গুন্ডারা এ দেশে অবাধে বিচরণ করতে পারবে না, কিংস রোডে ঘরবাড়ি কিনতে পারবে না, নাইটসব্রিজে বড়দিনের বাজার করতে পারবে না। তাদের কালোটাকা ব্রিটিশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে না।’

আইনটি অবশ্য ম্যাগনেটস্কি অ্যাক্ট নামেও পরিচিত। ২০০৯ সালে মস্কোর কারাগারে হেফাজতে নিহত একজন রুশ আইনজীবী সের্গেই ম্যাগনেটস্কির নাম অনুসারে এ মানবাধিকার রক্ষার আইনটি পরিচিতি লাভ করে। রুশ কর কর্মকর্তাদের ব্রিটেনে ২৩ কোটি ডলারের জালিয়াতির তথ্য প্রকাশের কারণে সের্গেই ম্যাগনেটস্কিকে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী আটক করেছিল। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রথম ম্যাগনেটস্কি অ্যাক্ট তৈরি করে। পরে কানাডা এবং বাল্টিক অঞ্চলের কয়েকটি রাষ্ট্রও এ একই ধরণের আইন করেছে। ব্রিটেনে ২০১২ সালেই এ আইন তৈরির দাবি ওঠেছিল এবং ২০১৮ সালে তার খসড়া পার্লামেন্টের কমিটি পর্যায়ে অনুমোদিত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও একই ধরণের আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও এ ধরণের আইন করছে বলে সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব পার্লামেন্টে জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাব হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত বিতর্কে বলেন যে এ আইনের নিষেধাজ্ঞা এমন এক হাতিয়ার, যা কোনো দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অপরাধীকে লক্ষ্যে করে প্রয়োগ করা যাবে। মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য এ আইনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে যেগুলো বিবেচিত হবে, সেগুলো হচ্ছে প্রথমত, জীবন ধারণের অধিকার যেখানে হত্যা বা বিচারবহির্ভূত হত্যায় হুমকির মুখে পড়ে; দ্বিতীয়ত, নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতা, অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণ ও সাজার শিকার না হবার অধিকার এবং তৃতীয়ত, দাসত্ব অথবা জবরদস্তি মূলক শ্রমে বাধ্য না করার অধিকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাব জানান, এ আইনে এসব অপরাধে সহায়তা, উসকানি ও তার প্রসারে যারা জড়িত, তাদের বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সবাইকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এটি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার বাইরেও রাষ্ট্রীয় কেউ নন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র পরে এলবিসি রেডিওকে বলেছেন যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে অথবা ধর্মবিশ্বাসের কারণে কাউকে বেআইনিভাবে হত্যা করার মতো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদেরও এ আইনের আওতায় আনা হবে।

এ আইনে যাঁদের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ম্যাগনেটস্কির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত এবং দায়ী হিসেবে অভিযোগ রয়েছে, এমন ২৫ জন রুশ কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে আছেন রুশ তদন্ত সংস্থার প্রধান আলেক্সান্ডার বাস্ত্রিকিন। যাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ ছাড়া ম্যাগনেটস্কি যে কারাগারে আটক ছিলেন, সে কারাগারের চিকিৎসক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে-এমন ২০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল অং হ্লাইং এবং তাঁর ডেপুটি জেনারেল সো উইন। রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার দুটি সংগঠন, যাদের বিরুদ্ধে জবরদস্তি মূলক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ আছে।

ব্রিটেনে এ আইনের প্রতি সর্বদলীয় সমর্থন থাকলেও এর প্রয়োগ কতটা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী-উভয় পক্ষের এমপিদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের নিপীড়নের অভিযোগ সত্ত্বেও চায়নার কারও বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন টোরি পার্টির সাবেক নেতা স্যার আয়ান ডানকান স্মিথ।

ম্যাগনেটস্কি অ্যাক্টকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি যথার্থ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে দুনিয়াজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন যে ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে, তার আলোকে মানবাধিকার কর্মীরা এর কার্যকারিতাকে সীমিত বলেই মনে করেন। বিশেষ করে এ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দেয়। এ আইন সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আইনটি প্রয়োগে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা স্পষ্ট নয়। ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অনেক দেশের রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ আইনে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও অন্য অনেক দেশে একই রকম অপরাধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নিষ্ক্রিয় থেকেছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রশ্ন ওঠতে বাধ্য। হাউস অব কমন্সে সোমবারের বিতর্কে এমপিদের অনেকের বক্তব্যেই সে সংশয়-সন্দেহের কথা ওঠে এসেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের নেতাদের কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার প্রবণতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে নেতারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিবেশ সৃষ্টি করেন, সেখানে শুধু তাঁদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তা প্রত্যাশিত ফল দেবে না। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নতুন এ ব্রিটিশ আইন এবং বেছে বেছে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো ব্যবস্থা গ্রহণকে দুনিয়ার সব দেশের রাজনীতিক, সরকারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রতি একটি শক্তিশালী হুঁশিয়ারি বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বার্তাটি হচ্ছে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কেউ দেশের সীমানার মধ্যে দায়মুক্তি ভোগ করলেও বিদেশে তাঁকে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। ব্রিটেনের সাথে কমনওয়েলথ দেশগুলোর নানা দিক থেকে বন্ধন ঘনিষ্ঠ হবার কারণে ওই সব দেশের জন্য এ আইনের কিছুটা বাড়তি গুরুত্ব থাকাই স্বাভাবিক।

তথ্য সূত্র: ওয়েব

Thursday, July 9, 2020

বোমা মেরে মসজিদ উড়িয়ে দেয়ার বাসনা! সে নৌ-সেনা এখন ইসলামের খাদেম!!


নৌ-সেনা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নতমানের বিস্ফোরক ডিভাইস তৈরি করেন রিচার্ড ম্যাকিনি। ডিভাইসটি ব্যবহার করে কাছের এক মসজিদ উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটানোর। কিন্তু তিনিই এখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করছেন বলে কানাডা ভিত্তিক মিডিয়া সিবিসি নিউজের এক রিপোর্টে বলা হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেটের নাগরিক রিচার্ড জানান, ছোটবেলায় হলিউড ছবি ‘র‍্যাম্বো’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নায়কের মতো হতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি মার্কিন নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন। এরপর মধ্যপ্রাচ্যসহ একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্বরত ছিলেন। নৌ-সেনা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রিচার্ড বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যু দেখা সবচেয়ে ভয়ানক ছিল।’

তবে এ করুণ বাস্তবতা এড়িয়ে নিজের সহকর্মীদের সঙ্গ দিতে বলা হয় তাকে। তার গায়ে চোখের পানির ফোটা সদৃশ ২৬টি ট্যাটু করা আছে। প্রতিটি ট্যাটু তার হত্যা করা মানুষের সংখ্যা প্রকাশ করে। তবে রিচার্ড যুদ্ধক্ষেত্রে বেশিদিন প্রতিপক্ষকে হত্যা করা মেনে নিতে পারেননি। তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

রিচার্ড বলেন, ‘একদিন আমার দোকানে দুজন বোরকাপরা নারী আসেন। আমি তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পরলাম এবং প্রার্থনা করতে লাগলাম, আমি যেন একটুকু শক্তি পাই যেন তাদের দুজনের ঘাড় মটকে দিতে পারি। আমি খুব রাগান্বিত ছিলাম এবং তাদের খুব ঘৃণা করতাম।’

‘সে সময় প্রতি দুদিনে আমি হাফ গ্যালন ভদকা পান করতাম। তখনই আমি বাসায় বসে আইইডি (বাসায় নির্মিত বোমা) বানিয়ে ফেলি। আমি চেয়েছিলাম ইন্ডিয়ানা স্টেটের মুন্সি শহরের একটি মুসলিম সেন্টারে এর বিস্ফোরণ ঘটাতে। এতে কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ নিহত হতে পারতো। আমি চেয়েছিলাম, এ হামলার মধ্য দিয়ে শেষবারের মতো আমার দেশের জন্য কিছু করতে। এটাই ছিলো আমার হামলার যুক্তির ব্যাখ্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম এ হামলার জন্য আমাকে কারাদন্ড দেয়া হতো এবং সর্বশেষ আমার হাতে সুঁই ফুটানো হতো। কিন্তু এতে আমার কিছু আসে যায় না। ইসলামের প্রতি ঘৃণাই যেন আমাকে জীবীত রেখেছিলো।’

মার্কিন এ নাগরিক বলেন, ‘একদিন আমার ছোট মেয়ে বাসায় এসে আমাকে বললো, সে স্কুল থেকে আসার সময় একটা ছেলেকে দেখেছে যার মা মুখে স্কার্ফ পরে সারা শরীর আবদ্ধ করে তাকে নিতে এসেছিলেন। তার কেবল চক্ষুগোলক ব্যতীত কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না।’

মেয়ের মুখ থেকে হিজাবি নারীর কথা শুনে রিচার্ড খুব রেগে যান। এক পর্যায়ে সন্তানদের সামনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন তিনি। তবে বাবার এমন ব্যবহার দেখে কিছু বলেনি ছোট মেয়ে। কেবল মেয়েটি রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে এমন একটা ভঙ্গিমা দিলেন যেন, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হিংস্র মানব হচ্ছে তার বাবা।

রিচার্ড বলেন, ‘তার এ চাহনি দেখেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এ মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও একটি সুযোগ দিবো। এরপর আমি নিকটস্থ একটি মসজিদে গেলাম এবং দেখলাম, একজন মুসলিম ব্যক্তি নিজের জুতো খুলে সেখানে প্রবেশ করলেন। সে আমার দিকে তাকিয়ে একটি হাসি দিলেন। আমাকে প্রশ্ন করলেন, “আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি?”

জবাবে রিচার্ড বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি চাই আপনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিন। এরপর তিনি আমাকে কোরআন দিলেন। ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন, “আপনি এটি পড়েন এবং পড়া শেষে কোনো প্রশ্ন থাকলে বলুন।” ‘বইটি পড়ে একের পর এক প্রশ্ন পাই আমি এবং তাদের কাছে ব্যখ্যা চাই। তারাও আমাকে ব্যাখ্যা করছিলেন।

এটা ছিল এক ধরণের সজাগ হওয়া। মসজিদে প্রবেশের ঠিক আট সপ্তাহ পর আমি মুসলিম হই।’ এ ঘটনার তিন বছর পর মুনসি ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন রিচার্ড। সর্বশেষে রিচার্ড বলেন, ‘আমি একজন মুসলিম। একজন দক্ষ সেনা ও গর্বিত মার্কিন নাগরিক।

আমি শিখেছি যে, আমার ধারণাগুলো পুরোপুরি ভ্রান্ত ছিলো। আপনি জানেন, ইহুদী ধর্মে একটি বার্তা আছে, খ্রিস্টান ধর্মেও বার্তা আছে একই সাথে ইসলাম ধর্মেও একটি বার্তা আছে। তবে বিষয়টি হাস্যকর হলেও সত্য যে, প্রত্যেক ধর্মের বার্তাই এক। সব ধর্মেই বলা হয়েছে শান্তি-ভালোবাসার কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমার এখন একটাই লক্ষ্য, ঘৃণা বন্ধ করা। ঘৃণা থেকে ভালো কিছু আসে না। আমি অনেক কিছু করেছি। আমি অনেক মানুষের ক্ষতি করেছি এবং এ বোঝা নিয়েই আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। তবে আমি যদি অন্য কাউকে থামাতে পারি তাহলেই আমি জিতে যাবো।’ যুক্তরাষ্ট্রে একজন মুসলিম নাগরিক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানালেন রিচার্ড।

তথ্য সহায়তা: ওয়েব

Thursday, July 2, 2020

ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে: তা ঠিক হবে আদালতে





তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের হাগিয়া সোফিয়া-কে মসজিদে পরিণত করা হবে কিনা–এ ব্যাপারে আজ সে দেশের এক আদালতের যে রায় দেবার কথা ছিল তা ১৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

দেড় হাজার বছরের পুরোনো ইস্তাম্বুলের হাগিয়া সোফিয়া এক সময় ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে। তারপর এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের তুরস্ক আবার এটাকে মসজিদে পরিণত করতে চায় এবং আদালত পক্ষে রায় দিলে তা হতে পারে।

তবে মাত্র ১৭ মিনিটের শুনানীর পর তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা–দি কাউন্সিল অব স্টেট–বলেছে তারা ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি রুলিং দেবেন।

মসজিদ না জাদুঘর?

হাগিয়া সোফিয়া নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে। তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। প্রায় ১০০০ বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

পরে ১৪৫৩ সালে যখন ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায়। তখন এটিকে পরিণত করা হয় মসজিদে।

১৯৩০ এর দশকে এটিকে পরিণত করা হয় এক জাদুঘরে। এটি এখন ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি বিশ্ব-ঐতিহ্য স্থান।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।

তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দিক থেকে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা করা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানও বেশ কিছুকাল আগে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর মি. এরদোগান এক নির্বাচনী সভায় এ পরিবর্তন আনার আহবান জানান।

ছবির কপিরাই

ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চের প্রধান এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিস–যে দেশে লক্ষ লক্ষ অর্থডক্স খ্রীষ্টানের বাস–তারাও এর বিরোধিতা করেছে।

গ্রিসের সংস্কৃতি মন্ত্রী লিনা মেনডোনি অভিযোগ করেছেন, তুরস্ক উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় চেতনা জাগিয়ে তুলতে চাইছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাগিয়া সোফিয়ার মত একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যমন্ডিত স্থানে ওই প্রতিষ্ঠানের আন্ত:-সরকার কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোন পরিবর্তন করা যাবে না।

ইউনেস্কোর উপপরিচালক আরনেস্তো রামিরেজ একটি গ্রিক সংবাদপত্রে দেয়া সাক্ষাতকারে এর সাথে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, এরকম পরিবর্তন আনতে হলে ব্যাপক ভিত্তিক অনুমোদন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের এ প্রতিষ্ঠানটি তুরস্কের কাছে এ প্রস্তাব সম্পর্কে একটি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু মি. রামিরেজ জানান, তারা কোন উত্তর পাননি।

হাগিয়া সোফিয়ার বিচিত্র ইতিহাস:

বসপরাস প্রণালীর পশ্চিম পাড়ে ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকায় গম্বুজ শোভিত এ বিশাল ঐতিহাসিক ভবনটি খুব সহজেই দর্শকদের নজর কাড়ে।

সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের আদেশে এ হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শুরু হয়েছিল ৫৩২ খ্রীষ্টাব্দে। ইস্তাম্বুল শহরের নাম তখন ছিল কনস্টান্টিনোপল। যা ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী–যাকে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যও বলা হয়।

ছবির কপিরাইI

এ সুবিশাল ক্যাথিড্রাল তৈরির সময় তখনকার প্রকৌশলীরা ভূমধ্যসাগরের ওপার থেকে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শেষ হয় ৫৩৭ সালে। এখানে ছিল অর্থডক্স চার্চের প্রধানের অবস্থান। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজকীয় অনুষ্ঠান, রাজার অভিষেক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো এখানেই।

প্রায় ৯০০ বছর ধরে হাগিয়া সোফিয়া ছিল পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স খ্রিষ্টান ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু। অবশ্য মাঝখানে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে একটি সংক্ষিপ্ত কালপর্ব ছাড়া, যখন চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিকরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে নেয়। তারা হাগিয়া সোফিয়াকে একটি ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল।

কিন্তু ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায় কনস্টান্টিনোপল। এর নতুন নাম হয় ইস্তাম্বুল। চিরকালের মত অবসান হয় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের।

ছবির কপিরাইImage

হাগিয়া সোফিয়ায় ঢুকে বিজয়ী সুলতাম দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে সংস্কার করে একটি মসজিদে পরিণত করতে। তিনি এ ভবনে প্রথম শুক্রবারের সালাত আদায় করেন।

অটোমান স্থপতিরা হাগিয়া সোফিয়ার ভেতরের অর্থডক্স খ্রীষ্টান ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতীক-চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলেন বা পলেস্তারা দিয়ে ঢেকে দেন। ভবনের বাইরের অংশে যোগ করা হয় উঁচু মিনার।

ইস্তাম্বুলে ১৬১৬ সালে ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত হাগিয়া সোফিয়াই ছিল শহরের প্রধান মসজিদ। নীল মসজিদ সহ এ শহরের এবং দুনিয়ার অন্য বহু মসজিদের নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করে এর স্থাপত্য।

প্রথম ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১৯১৮ সালে শেষ হলে অটোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হয়। বিজয়ী মিত্রশক্তি গুলো তাদের ভূখন্ডকে নানা ভাগে ভাগ করে ফেলে। তবে ওই সাম্রাজ্যের অবশেষ থেকেই জাতীয়তাবাদী তুর্কী শক্তির উত্থান হয়। তারা প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক তুরস্ক।

ছবির কপিরাইটImage capti

তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল পাশা (কামাল আতাতুর্ক) আদেশ দেন, হাগিয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করতে।

হাগিয়া সোফিয়াকে ১৯৩৫ সালে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর এটি তুরস্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থলে পরিণত হয়েছে।

এ হাগিয়া সোফিয়া এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

তুরস্কের ভেতরে এবং বাইরে বহুগোষ্ঠীর জন্য হাগিয়া সোফিয়ার ১৫০০ বছরের ইতিহাস ব্যাপক ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

উনিশ'শ চৌতিরিশ সালে করা এক আইনে এই ভবনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসলামপন্থী এবং ধার্মিক মুসলিমরা দাবি করেন যে, হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করা হোক। তারা ওই আইনের বিরুদ্ধে ভবনটির বাইরে বিক্ষোভও করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বক্তব্যে এ দাবির প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, হাগিয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা ছিল এক “বিরাট ভুল।“

এর পর তিনি তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন কিভাবে ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করা যায় তা খতিয়ে দেখতে।

পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স চার্চের প্রধান–যাকে বলা হয় ইকিউমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক অব কনস্টান্টিনোপল–তার দফতর এখনো ইস্তাম্বুলে। গত মঙ্গলবার প্যাট্রিয়ার্ক প্রথম বার্থোলোমিউ সতর্ক করে দেন যে, এ ভবনকে মসজিদে পরিণত করা হলে সারা দুনিয়ার লক্ষ লক্ষ খ্রীষ্টান মর্মাহত হবে এবং দুই দুনিয়ার মধ্যে ফাটল দেখা দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, হাগিয়া সোফিয়ায় কোন পরিবর্তন আনা হলে তা এখন যেভাবে দুই ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সেতু হিসেবে কাজ করছে তা বিনষ্ট হবে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন এ্যাম্বাসাডর এ্যাট লার্জ স্যাম ব্রাউনব্যাক তুরস্কের প্রতি আহবান জানিয়েছেন যেন হাগিয়া সোফিয়া এখন যে অবস্থায় আছে তেমনি রাখা হয়।

কিন্তু তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু জোর দিয়ে বলেছেন, এ ভবনটির অবস্থান তুরস্কের ভূখন্ডে, তাই এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গ্রীসের কিছু বলার থাকতে পারে না।

‍“আমরা আমাদের দেশে আমাদের সম্পদ নিয়ে কী করছি তা আমাদের বিষয়” – তুরস্কের টুয়েন্টিফোর টিভিকে বলেন মি. কাভুসোগলু।

তথ্য সহায়তা: বিবিসি

Tuesday, June 30, 2020

ছোটবেলায় আমি তিলের খাজা বিক্রি করতাম: এরদোগান


দুনিয়ার অনেক দেশের রাষ্ট্রনেতারা বই লিখেছেন। সেসব বই বহুলপঠিত, আলোচিত এমনকি সমালোচিতও হয়েছে। তুরস্কের বর্তমান নেতা রজব তাইয়েব এরদোগান বই লিখেননি, তবে এক নাতিদীর্ঘ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার বই ভাবনা। 

আপনার ছোটবেলার প্রিয় উপন্যাস বা কবিতাটির কথা শুনতে চাই। বলুন, কবে আপনি ওটা প্রথম পড়েছিলেন এবং কিভাবে তা আপনাকে প্রভাবিত করে এরদোগান : আমি নিশ্চিত, প্রতিটি শিশুই সাহিত্যের সাথে পরিচিত হয় ঘুমপাড়ানি গান ও রূপকথার মাধ্যমে। আমার মা (আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন) আমাদের বড় করে তুলেছেন অ্যানাতোলিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে শুনিয়ে। আমার মরহুম পিতার কাছে শুনেছি অ্যানাতোলিয়ার অসংখ্য সুন্দর গল্প ও রূপকথা। মনে আছে, ছোটবেলায় আমি তিলের খাজা বিক্রি করতাম। বিক্রিশেষে যা আয় হতো তা নিয়ে ছুটে যেতাম বাইয়ের দোকানে।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমার প্রজন্মে বেড়ে ওঠার সময়টি ছিল অস্থির। নানা জটিল বিতর্ক ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় পরিপূর্ণ। ওই সময়টায় নানা রকম প্রতীক, স্লোগান ও বিক্ষোভের প্রবল প্রতাপে ভাবধারা (আইডিয়া) হারিয়ে যেতে বসেছিল।

কবর রচিত হয়েছিল বুদ্ধিমত্তার। ভিন্নমত সহ্য করার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বই, সাময়িকী, সংবাদপত্র, কবিতা, উপন্যাস, গল্প এবং লেখকেরাও মূল্যায়িত হতেন তার রচনাটি কী উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে এবং এর গূঢ়ার্থ দিয়ে। তরুণেরা বই পড়ত, তবে কিছু জানার জন্য নয়, বরং নিজের ভাবধারার পক্ষে যুক্তি খোঁজার জন্য।

ওই অন্ধকার যুগে তরুণদের দৃশ্যপটের বাইরেই রাখা হতো। এমন দিনে আমি এবং আমরা বন্ধুরা নিজেদেরকে ওই গুমোট পরিবেশের বাইরে রাখতে সচেষ্ট হলাম। সমবয়সী অন্যদের মতো আমরা নিজেদের চোখ-কান বন্ধ রাখতে চাইলাম না, ক্ষুদ্র আদর্শিক বৃত্তে বন্দী থাকতে চাইলাম না এবং চাইলাম না এমন লোকদের মতো হতে, যারা নতুন যেকোনো ধারণাকেই হুমকি মনে করে।

আমরা জানতাম, দৃঢ় ভিত্তি ও স্থির নীতি ছাড়া কোনো আন্দোলনই সফল হতে পারে না। আমাদের খুব জানা ছিল, ব্যাপক পড়াশোনা থাকলেই কেবল ভাববিনিময় ও বিতর্ক ফলপ্রসূ হতে পারে। তাই আমরা পড়াশোনার কষ্টকর পথটি বেছে বিলাম; ব্যাপক পড়াশোনা। আমাদের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো আমরা সেসব লেখকের বই পড়তে থাকলাম, তুর্কি ও বিশ্বসাহিত্যকে যারা পথনির্দেশ দিয়েছেন।

এখানে আমি আরো একটা কথা জানিয়ে রাখতে চাই, তা হলো : আমাদের সময়টি ছিল এমন একটি সময়, যখন কোনো বই হাতে পাওয়াটা ছিল খুবই কঠিন। এখনকার মতো তখন এত বই, এত পাঠাগার ছিল না। এখন যেমন অনেক পরিবার বই কেনার জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ (বাজেট) রাখে, তখন এটা ছিল না। এখন যেমন কাউকে বাসে, পার্কে বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে স্বাধীনভাবে বই পড়তে দেখা যায়, এমনটা তখন ভাবাই যেত না।

এমন অবস্থায়ও যখন আমরা কোনো বই হাতে পেতাম, সে বই এহাত-ওহাত ঘুরে কয়েক ডজন তরুণের পড়া হয়ে যেত। তখন ইন্টারনেট ছিল না, ফটোকপি মেশিনও নয়, তা সত্ত্বেও যেকোনো মহৎ সাহিত্যকর্ম কিংবা সুন্দর একটি কবিতা হাত থেকে হাতে একেবারে অ্যানাতোলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যেত।

এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়ের কাছে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হতে পারে। কারণ তাদের হাতের নাগালে স্কুল, টেবিল ভরতি বই। কিন্তু আমাদের তো এসব ছিল না। আমরা এমন একটি প্রজন্ম, যাদের কাছে বই ছিল দুষ্প্রাপ্য ও দুর্মূল্য। কাজেই আমাদের জন্য এটাই স্বাভাবিক যে, আমাদের সন্তানদের হাতে যত সহজে সম্ভব বই তুলে দেয়ার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করে যাবো।

ছোটবেলায় আমি যেসব গল্প ও কবিতা পড়েছি, তার থেকে একটিকে ‘প্রিয়’ হিসেবে বাছাই করতে বললে আমি কিন্তু পারব না। তারপরও বরেণ্য চিন্তাবিদ নেসিপ ফাজিল কিসাকুরেক এবং তার ‘সাকারিয়া’ কবিতাকে আমি শীর্ষে রাখব। এই মানুষটি এবং তার রচনা আমাদেরকে ইতিহাস ও বর্তমান সম্বন্ধে সচেতনতার বোধ দিয়েছে।

যদি আপনাকে বলা হয় তুরস্কের স্কুল পাঠ্যক্রমে নতুন একটি বই যোগ করতে, কোন বইটি বেছে নেবেন এবং কোন বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য?
এরদোগান: কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই আমি মেহমেত আকিফ এরোজির ‘সাফাহতে’ বইটির কথা বলব এবং চাইব, সব বয়সের মানুষ বইটি পড়–ক এবং বইটির সাথে পরিচিত হোক।

কারণ এটি একটি মহৎ সাহিত্য বা কাব্যই শুধু নয়, বরং এটি এমন একটি রচনা, যা আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের ওপর আলো ফেলেছে। এটি একটি দর্শনের বই, যে দর্শনের ভিত্তিতে একটি জাতি ও একটি সভ্যতা নির্মিত হয়েছে। এটি একটি ভাবধারার বই, যে ভাবধারা আমাদের আমাদের অতীত চেতনার সাথে ভবিষ্যৎকে মিলিয়ে দিয়েছে।

আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যেমন এ জাতির পরিচয় জ্ঞাপকরূপে কাজ করে এবং যে ভিত্তির ওপর তা নির্মিত, ‘সাফাহাত’ বইটিও তেমন। এতে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের চেতনাই অনুরণিত হয়। যারা বইটি প্রথম পড়বেন, তাদের কাছে এর শব্দ ও স্তবকগুলো বুঝতে পারা কঠিন হতে পারে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, তরুণ বয়সে এরকম একটি সাহিত্যকর্মের সাথে পরিচিত হলে,

এর পৃষ্ঠায় নিমজ্জিত হলে তা আমাদের তরুণদের শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে। যে সমাজের শব্দভাণ্ডার যত ব্যাপক, সে সমাজের সৃজনশীলতাও তত বেশি।
সবচেয়ে বড় কথা, আমি বিশ্বাস করি, ‘সাফাহাত’ বইয়ের শব্দ ও স্তবকগুলো ইতিহাসের সাথে আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমাদের কর্মপ্রচেষ্টায় আরো ত্যাগের মনোভাব জাগ্রত করবে।

আমাদের দেশে (কিংবা বিশ্বে) পরিবর্তন এনেছে, এমন কোনো বইয়ের নাম বলতে বললে আপনি কোনো বই বা লেখকের নাম বলবেন এবং কেন?
এরদোগান: আমার মনে হয় আপনি নিজেও বোঝেন যে, একটি বা দু’টি নাম বলে এলে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া প্রায় অসম্ভব। নিঃসন্দেহে পবিত্র কুরআন থেকে শুরু করে সব ধর্মগ্রন্থের চিরায়ত গুরুত্ব রয়েছে। এর বাইরে প্রত্যেক জাতির নিজস্ব অতিগুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সাহিত্যকর্ম রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা রুমী ও ইউনূস এমরের কথা বলব। তারা আমাদের এখানে, অ্যানাতোলিয়ায় বসে লিখেছেন। কিন্তু তাদের সৃষ্টি সব সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। ভেঙেছে সময়ের বেড়া। তারা আপন লোকালয়ে আবদ্ধ থাকেননি, বরং আলিঙ্গন করেছেন সমগ্র বিশ্বকে। ভাবতে অবাক লাগে, তাদের রচনা, তাদের কবিতা রচিত হয়েছে কয়েক শ’ বছর আগে। অথচ তা এখনো মানবতার পথপ্রদর্শক।

আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ইতিহাস নিয়ে আমার সত্যিই গর্ব হয়। অবশ্য গর্বভরে উল্লেখ করার মতো আরো অনেক মহৎ সাহিত্যিক আমাদের দেশে আছেন। ইউসুফ হাস হাচিপ, আহমেত ইয়েসেবি, ফুজুলি, নেদিম, হাবি বেকতাস, কেমাল তাহির, ইয়াহিয়া কেমার, কেমিল মেরিক, ও গুজ আতাই, নুরেত্তিন তপকু, ওরহান পামুক এবং এ রকম আরো অনেকে মহৎ সাহিত্য রচনা করেছেন।

প্রতিটি লেখক, তাদের সাহিত্যকর্ম, এমনকি প্রতিটি স্তবক বা বাক্য, তা ছোট হোক বা বড়, মানুষকে প্রভাবিত করে। বলা হয়ে থাকে, ‘মুখের কথা উড়ে যায়, লেখা কথা থেকে যায়। লিখিত সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে পাঠকের ব্যক্তিগত জীবনের একটি দিকের সাথে সম্পর্কিত হয়ে যায়। এবং তা-ই এনে দেয় পরিবর্তন।

(তুর্কি সংবাদপত্র থেকে তরজমা)

ছয় যমজ সন্তান নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জার্মান নারী

  ছয় যমজ সন্তান নিয়ে এক দশক আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন জার্মানির রুকসানা তামিজ। মুসলিম হবার পর হিজাব পরা শুরু করেন এবং পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন অনুশ...